সর্বশেষ আপডেট:
সহবাসের-দোয়া-sohobaser-dua-niom

(আসল)সহবাসের দোয়া,নিয়ম ও পদ্ধতি

লোকমত ডেস্ক ধর্ম ও জীবন

আলোচ্য বিষয়সমূহের তালিকা

সহবাসের দোয়া
  •  
স্বামী স্ত্রীর সহবাসের নিয়ম ও পদ্ধতি
  •  
স্ত্রী সহবাসের নিষিদ্ধ সময়
  •  
সহবাসের উপকারিতা
  •  
সহবাস সম্পর্কিত কুসংস্কার



মহান রাব্বুল আলামীন নিকাহ বা বিয়ের মাধ্যমে নর-নারীর যৌন সম্ভোগ তথা বংশ বৃদ্ধিকে কল্যাণের কাজে পরিণত করেছেন। নিকাহের ফলে স্বামী-স্ত্রীর যাবতীয় বৈধ কার্যক্রম হয়ে ওঠে কল্যাণ ও ছাওয়াবের কাজ। বংশবৃদ্ধির একমাত্র মাধ্যমে হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস। এর রয়েছে কিছু নিয়ম-নীতি ও দোয়া। 

সহবাসের দোয়া

بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা

অর্থ

‘হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি, তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখ। আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে, তা হতেও শয়তানকে দূরে রাখ।’


স্বামী স্ত্রীর সহবাসের নিয়ম ও পদ্ধতি

  • বিসমিল্লাহ বলে সহবাস শুরু করা মুস্তাহাব। ভুলে গেলে যদি বীর্যপাতের পূর্বে স্মরণ হয় তাহলে মনে মনে পড়ে নিতে হবে।
  • সহবাসের প্রথমে দোয়া পড়া।
  • স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকবে।
  • সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করা। যা আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত।
  • সব ধরনের দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস পরিহার করা। উল্লেখ্য যে, ধূমপান কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে কামভাব কমে যায়। আগ্রহের স্থান দখল করে নেয় বিতৃষ্ণা।
  • সহবাস করার সময় নিজের স্ত্রীর রূপ দর্শন শরীর স্পর্শন ও সহবাসের সুফলের প্রতি মনোনিবেশ করা।
  • পায়ু পথে স্ত্রী সহবাস না করা।
  • স্ত্রীকে পুরিপুর্ণ তৃপ্তি দান করার পুর্বে বিচ্ছিন্ন না হওয়া। প্রয়োজনে একাধিকবার সঙ্গম করে সহধর্মিনীকে খুশি করা।
  • রোজা থাকলে ইফতারের পর যেকোনো সময় বা রাতে সহবাস করা যাবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,

“রোজার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।”

-(সূরা বাকারাহ আয়াত নং ১৮৭) 

 

স্ত্রী সহবাসের নিষিদ্ধ সময়

  •  দিনের বেলায় রোজা রেখে সহবাস করা যাবে না, তবে করে ফেললে যথারীতি তার কাফফারা আছে। একটানা দুইমাস রোযা রাখতে হবে, নয়তো অক্ষম হলে ষাট জন মিসকীন খাওয়াতে হবে।
  • হজ্জ বা ওমরার ইহরাম অবস্থায় সহবাস নিষিদ্ধ, এ প্রসঙ্গে
    মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

“সুবিদিত মাসে (যথাঃ শাওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জে) হজ্জ হয়। যে কেউ এই মাস গুলোতে হজ্জ করার সংকল্প করে, সে যেন হজ্জ এর সময় স্ত্রী সহবাস (কোন প্রকার যৌনাচার), পাপ কাজ এবং ঝগড়া বিবাদ না করে।”

-(সুরা বাকারাহ আয়াত নং ১৯৭) 

  • মাসিক পিরিয়ড অবস্থায় সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“লোকেরা তোমাকে ঋতু বা মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞেসা করে। তুমি বলো, তা কষ্ট। সুতরাং তোমরা ঋতু বা মাসিক কালে স্ত্রী সঙ্গম বর্জন কর। এবং যতদিন না তারা পবিত্র হয়, (সহবাসের জন্য) তাঁদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাঁদের নিকট ঠিক সেই ভাবে গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থীগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে, তাঁদেরকে পছন্দ করেন।"

-(সূরা বাকারা আয়াত নং ২২২)

  • রোগাবস্থায় সহবাস না করা। কেননা এতে তার রোগ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সহবাসের উপকারীতা

  • পর্যাপ্ত সহবাস রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
  • সহবাসের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • হতাশা ও উদ্বেগ জনিত রোগে বাধা প্রদান করে পরিমিত সহবাস।
  • কামশক্তি বাড়াতে সহবাস মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
  • নিয়মিত সহবাসে ভালো ঘুম হয় ও ইন্সোমনিয়া জাতীয় রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • প্রাকৃতিক ব্যাথার উপশমকারী হিসেবেও সহবাসকে গণ্য করা হয়।

সহবাস সম্পর্কিত কুসংস্কার

  • অমবশ্যার রাতে সহবাস করা যাবে না। 
  • শবে বরাতের রাতে সহবাস করা যাবে না।
  • ঈদের রাতে সহবাস করা যাবে না।
  • ঈদুল আযহাতে রাত্রের সহবাসের সন্তান বাইশ আঙ্গুল বিশিষ্ট হয়।
  • পূর্ণিমার রাত্রিতে সহবাস করতে হয় না।
  • দিনের বেলা সহবাস করলে স্বামীর আয়ু কমে যায়।
  •  কিবলামুখী হয়ে সহবাস না করা।
  • চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে মিলিত না হওয়া।
  •  স্ত্রীর জরায়ুর দিকে চেয়ে সহবাস না করা।
  • বিদেশে বা সফরে যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস না করা।
  • জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস না করা।
  • সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা না বলা।
  • অন্ধকার ঘরে ক্ষুদ্র বা নোংড়া জায়গায় স্ত্রী সহবাস করা ভালো নয়।
  • ফলবান গাছের নিচে সহবাস না করা।
  • ছাদ বা চালশূন্য ঘরে সহবাস না করা।
  • সূর্যের উত্তাপে সহবাস না করা।
     
    মূলত,দিনে বা রাতে স্বামী স্ত্রীর যখনই সুযোগ হয়, তখনই সহবাস বৈধ। আসলে কুরআন ও সুন্নাহ'র আলোকে সহবাসের কোন নিষিদ্ধ সময় নেই। এই মর্মে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন যে,

“অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা প্রার্থীগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে, তাঁদেরকে পছন্দ করেন।”


-(সূরা বাকারাহ আয়াত নং ২২২)।